দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক শফিউল হাসান দিপুর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ জনতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে বদলগাছী থানায় মামলাটি করেন। এতে একমাত্র আসামি করা হয়েছে শফিউল হাসান দিপুকে, যিনি জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা জামায়াতের আমির এবং কোলা ইউনিয়নের নিবন্ধিত কাজী (মুসলিম বিবাহ নিবন্ধক) হিসেবেও পরিচিত।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে বৃষ্টির কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের উপস্থিতি কম ছিল। সকাল সাড়ে ৭টার কোচিং ক্লাসে অংশ নিতে গেলে শ্রেণিকক্ষে একা পেয়ে প্রধান শিক্ষক ওই ছাত্রীকে জড়িয়ে ধরেন, আপত্তিকর আচরণ করেন এবং অনৈতিক প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, শিক্ষার্থী নিজেকে ছাড়িয়ে দ্রুত কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসে এবং বাড়ি ফিরে কান্নায় ভেঙে পড়ে। পরে পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিলে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বলেন, তাঁর মেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। ঘটনার বিচার চেয়ে তিনি থানায় মামলা করেছেন।
ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর মঙ্গলবার সকাল থেকে বিদ্যালয়ের সামনে অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা জড়ো হয়ে অভিযুক্তের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতার একটি অংশ বিদ্যালয়ে ভাঙচুর ও কয়েকটি কক্ষে অগ্নিসংযোগ করে।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশরাত জাহান সনি এবং বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ রুহুল আমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন অভিভাবক অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। স্থানীয় বাসিন্দা মিঠু হাসানও অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
কোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিনুর ইসলাম স্বপন বলেন, অভিযোগের সত্যতা মিললে অভিযুক্তের কাজীর লাইসেন্স বাতিলসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে শফিউল হাসান দিপুর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
তবে বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সুন্নাতুন নেসা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রতিষ্ঠানকে বিতর্কিত করতে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা সাজানো হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে জয়পুরহাট জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি হাসিবুল আলম বলেন, বিষয়টি সংগঠনের পক্ষ থেকে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের করা মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশরাত জাহান সনি বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জে আই